বন্দুক দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ইট চুরি, বীরভূমে এবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফআইআর

বন্দুক দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ইট চুরি, বীরভূমে এবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফআইআর

ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে এবার বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বোমা ও বন্দুক দেখিয়ে একটি ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুঠ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত ওরফে কেষ্টর নির্দেশেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চুরি, ভয় দেখানো এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

লুটপাটের কারণ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

আদিত্যপুরের পাথরঘাটা গ্রামে অবস্থিত ‘লায়ন ব্রিক ফিল্ড’ নামের ওই ইটভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডলের অভিযোগ, বোলপুরে দলীয় কার্যালয় তৈরির সময় অনুব্রতর লোকেরা তাঁর কাছ থেকে ইট চেয়েছিল এবং তিনি তা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা তোলা চাওয়া হতো। সেই তোলা দিতে না পারার কারণেই তিনি ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হন। নির্বাচনের পর কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র দুষ্কৃতী ১০০টি ট্রাক্টর নিয়ে ভাটায় চড়াও হয়। বোমা-বন্দুক নিয়ে চালানো সেই ভয়াবহ তাণ্ডবের মুখে প্রাণ বাঁচাতে কোপাই নদীর তীর ধরে পালিয়ে যান মালিক। এরপর ভাটা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ইট লুঠ করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ব্যবসা ধ্বংস ও দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং আতঙ্কে দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া ছিলেন। সেই সময় পুলিশ, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলে তাঁর দাবি। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে অবশেষে অনুব্রত মণ্ডলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এই আর্থিক ধাক্কা ও মানসিক শোকে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার দেবপ্রসাদ রায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রভাব

অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে নতুন করে এই তোলাবাজি ও লুঠপাটের মামলা রুজু হওয়ায় বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা ভোট পরবর্তী হিংসার এই অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের ওপর আইনি চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় এবং ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতিপূরণ উদ্ধার হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *