বিজেপি ছাড়তেই আন্নামালাইয়ের চমক, ১০ ঘণ্টাতেই নতুন মঞ্চে ১০ লক্ষের রেকর্ড

বিজেপি ছাড়তেই আন্নামালাইয়ের চমক, ১০ ঘণ্টাতেই নতুন মঞ্চে ১০ লক্ষের রেকর্ড

দক্ষিণী রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব চমক দিলেন তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ত্যাগ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার রাতে তিনি তাঁর নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ‘ইধু নাম্মা ইয়াক্কাম’ (এটি আমাদের আন্দোলন)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। আর আত্মপ্রকাশের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই এই নতুন প্ল্যাটফর্মে ১০ লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন আন্নামালাই নিজে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা ঘোষণা করে তিনি একে যৌথ লক্ষ্য ও ভাবাদর্শের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দলের সাথে মতবিরোধ ও ইস্তফা

সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে AIADMK-এর সঙ্গে জোট বেঁধে ২৭টি আসনে লড়ে মাত্র ৩ শতাংশ ভোট পায় বিজেপি। এই বিপর্যয়কর ফলাফলের পর থেকেই দলের সঙ্গে আন্নামালাইয়ের দূরত্বের জল্পনা তীব্র হচ্ছিল। অবশেষে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করতেই নতুন ইনিংস শুরু করলেন প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসার। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নয়াদিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বি এল সন্তোষ এবং নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠকের পরই আন্নামালাই দল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর চিন্তাভাবনার বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছিল।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের শোচনীয় ফলের পর রাজ্যে দলের রণকৌশল নিয়ে আন্নামালাইয়ের মতবিরোধ চরমে পৌঁছায়। দিল্লির চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাজ্যের নিজস্ব রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ করতে চাওয়াই তাঁর দল ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

বিজেপি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরদিনই যেভাবে আন্নামালাইয়ের নতুন মঞ্চে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামল, তা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমর্থন প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। আন্নামালাইয়ের এই নতুন আন্দোলন যদি দীর্ঘমেয়াদে নিজের গতি ধরে রাখতে পারে, তবে তা রাজ্যের শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তৃতীয় এক শক্তিশালী বিকল্পের জন্ম দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *