চাপে পড়ে কাটমানি ফেরত! কিস্তিতে টাকা দিচ্ছেন তৃণমূল কাউন্সিলর

মাথাভাঙা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাকলি ঘোষের কাটমানি ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে স্থানীয় একটি দুর্গামন্দিরে এলাকাবাসীদের ডেকে তিনি প্রথম দফায় এক লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধি হয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের এই ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কিস্তিতে টাকা ফেরানোর নেপথ্যে স্থানীয় রাজনীতি
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে সালিশি সভার জরিমানা—বিভিন্ন অছিলায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল সরকারি প্রকল্প নয়, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর নামেও জোর করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরেও অধিকাংশের সমস্যার সমাধান হয়নি। বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়া এবং দলীয় নেতার গা-ঢাকা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে কাউন্সিলর নিজেই টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্বীকোক্তি ও রাজনৈতিক বিতর্ক
কাটমানি নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ। তাঁর দাবি, দলের যুবনেতা নয়নজ্যোতি সাহার সরাসরি নির্দেশ ও চাপে পড়েই তিনি এই বেআইনি কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমানে ওই যুবনেতা পলাতক থাকায় সমস্ত দায় এখন তাঁর ওপর এসে পড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাকি টাকাও পর্যায়ক্রমে কিস্তিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেরত দেবেন। তবে বিরোধী দল বিজেপির মতে, এই উদ্যোগ শুধুই দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে নেওয়া এক কৌশল মাত্র। জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে জনপ্রতিনিধিরা যে ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।