পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মেঘ, ভারতীয় অর্থনীতি রক্ষায় জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চার মাস পার করলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই, যার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর সঙ্কট ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেই ভারতের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে শনিবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (PM-EAC) সদস্যদের সঙ্গে হওয়া এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং বিশ্ব বাজারের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও উপদেষ্টারা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা, বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিয়ে এখানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই পরিস্থিতির কারণে যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় কোনো ধাক্কা না আসে, সেই লক্ষ্যে সরকারকে বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন উপদেষ্টারা।
অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ধরে রাখার কৌশল ও সংস্কার
বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা। সঙ্কট মোকাবিলার পাশাপাশি দেশে ‘Ease of Living’ (জীবনযাত্রার সুবিধা) এবং ‘Ease of Doing Business’ (ব্যবসা করার সুবিধা) উন্নত করার জন্য সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা তৈরি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল নিয়েও উপদেষ্টারা তাঁদের মতামত পেশ করেন।
সতর্কতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করছেন। এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের বৈঠকেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং নাগরিক স্তরে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রাও এই যুদ্ধকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি নতুন ও বড় ঝুঁকি বলে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্ববাজারে মন্দার মেঘ থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি অন্যান্য দেশের তুলনায় এই ধাক্কা অনেকখানি কম ক্ষতিতেই সামাল দিতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক এই সংকটের সময়ে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।