২০১৯-এর সিএএ বিরোধী হিংসার ফাইল খুলছে সরকার, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের পুনর্তদন্তে ‘বিশেষ সেল’
June 6, 20267:54 pm

২০১৯ সালের সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এই তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
তদন্তের মূল পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ:
- ‘বিশেষ সেল’ গঠন: ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের সদর দপ্তর হবে ভবানীপুরে।
- রেল পুলিশের সহায়তা: এই তদন্তে রাজ্য পুলিশকে পূর্ণ সহায়তা করবে রেল কর্তৃপক্ষ এবং জিআরপি (GRP)। ২০১৯ সালের সেই অস্থির সময়ে ট্রেনে আগুন, স্টেশনে লুটপাট ও ভাঙচুরের যে সমস্ত নথিপত্র ও তথ্য রেলের কাছে রয়েছে, তা এই বিশেষ সেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
- ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত: তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকেই সেই আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
- ঘটনার পরিধি: ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় মূলত মুর্শিদাবাদ এবং হাওড়া জেলায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছিল। বেলডাঙায় থানায় আগুন ও ভাঙচুর, উলুবেড়িয়ায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড এবং স্টেশনে লুটপাটের মতো ঘটনাগুলোর ওপরই এই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। অতীতে ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কার্যকলাপের আইনি সুরাহা এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের দায়ভার যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই বহন করতে হবে—এই বার্তাটিও প্রশাসনিকভাবে জোরালো করা হচ্ছে।