পুরবোর্ড কি ভেঙে দেওয়া হবে? প্রশাসনিক জট কাটাতে রাজ্যের কড়া নির্দেশ
June 6, 20267:55 pm

কলকাতা পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ এবং আইনি প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শেয়ার করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতা:
- রাজ্যের চিঠি ও নোটিশ: মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর কলকাতা পুরসভাকে একটি কড়া চিঠি দিয়েছে। ১৯৮০ সালের কলকাতা পুর আইনের ১১৭(১) ধারার অধীনে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা আগামী তিনদিনের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।
- রাজ্যের উদ্বেগের কারণ: সরকারের দাবি, মেয়রের পদত্যাগের ফলে নাগরিক পরিষেবা প্রদান এবং পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সংবিধান ও পুর আইনের পরিপন্থী।
- পুর আইন ও প্রশাসক: যদি পুরসভা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার আইন অনুযায়ী ৬ মাসের জন্য পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা রাখে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য এখন তাদের আইনি ক্ষমতার সপক্ষে ব্যাখ্যা চাইছে।
আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি:
- বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মত: প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে, সরাসরি পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের নেই। তাঁর মতে, মেয়র না থাকলে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়, তা মেটানোর জন্য পুরসভা ভেঙে না দিয়ে বরং ‘প্রশাসক’ নিয়োগ করে পরিষেবা বজায় রাখা উচিত।
- ভবিষ্যৎ পথ: যদি রাজ্য সরকার মনে করে যে পুরসভা কাজ চালাতে সক্ষম নয়, তবে প্রশাসক নিয়োগই হতে পারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। সেক্ষেত্রে পুরনির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রশাসকের হাতেই ন্যস্ত থাকবে।
নাগরিক পরিষেবা:
এই ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপড়েনে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সেটিই সবচেয়ে জরুরি। মেয়রের ইস্তফার পর স্বাভাবিক কাজকর্ম যেন সচল থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্যই রাজ্য সরকার এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।