‘জেলে জায়গা হবে না, তাই নতুন জেল বানাচ্ছি আমরা’! দিলীপ ঘোষের নিশানায় কারা?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শাসক শিবিরের একের পর এক নেতার গ্রেপ্তারিতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ টেনে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, প্রাণী সম্পদ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গ্রেপ্তার তো সবে শুরু। দেখুন না সিরিজ চলবে। জেলে জায়গা হবে না। নতুন জেল বানাচ্ছি আমরা।”
‘গ্রেপ্তার তো সবে শুরু, সিরিজ চলবে’
শনিবার ব্যারাকপুরের কেন্দ্রীয় পাট এবং তন্তু গবেষণা কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সন্দেশখালিতে এসটিএফ (STF) হানা ও বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, “শুধু সন্দেশখালি নয়, সারা পশ্চিমবাংলায় লুট হয়েছে। এতদিন মানুষ ভয়ে অভিযোগ করতে পারছিলেন না।” তাঁর আশ্বাস, এখন সাধারণ মানুষ সাহস করে অভিযোগ জানাবেন এবং পুলিশ তার ভিত্তিতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করবে। রাজ্যজুড়ে আরও বড় মাপের পুলিশি অভিযান এবং আরও তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারির ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
‘দেশের সম্পদ নষ্ট করলে ছাড়া হবে না’
এদিন বক্তব্যের শুরুতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে সিএএ (CAA) চালুর সময়ে বেলডাঙা ও মুর্শিদাবাদে যে অশান্তি হয়েছিল, ট্রেন-বাস এবং রেল স্টেশন জ্বালানো হয়েছিল— সেইসব ঘটনার যদি কোনো অভিযোগ আগে নথিবদ্ধ না-ও হয়ে থাকে, তবে এখন নতুন করে ফাইল খোলা হবে। সেই সমস্ত দেশদ্রোহী ও দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে।
সবশেষে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেশদ্রোহীতা বা দেশের সম্পদ নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে, সব অস্ত্র উদ্ধার হবে এবং সবাই জেলে যাবে।”