ডাস্টবিনে বস্তাবন্দি আধার ও রেশন কার্ড! তীব্র চাঞ্চল্য, কাঠগড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এবার হাওড়ার বেলুড়ে ডাস্টবিন থেকে প্রচুর পরিমাণে সাধারণ মানুষের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোডের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনায় বালি পুরসভার ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সীমা ভৌমিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
ডাস্টবিনে সরকারি নথির পাহাড় ও জনতার প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুড়ের একটি তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত ডাস্টবিনে বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং দলীয় সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। বস্তা খুলতেই চোখ কপালে ওঠে সকলের। সেখান থেকে উদ্ধার হয় একের পর এক সাধারণ মানুষের নামে ইস্যু হওয়া রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং একাধিক চাকরির আবেদনপত্র। এর পাশাপাশি বস্তার ভেতর থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা ও ফেস্টুনও মেলে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নাগরিকদের এই সমস্ত অতি প্রয়োজনীয় সরকারি নথি কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে জমা হলো এবং সেগুলি কেন এভাবে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হলো? এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সীমা ভৌমিকের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বালি বিজেপির আহ্বায়ক যোগেশ সিং এবং বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিং দাবি করেছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভবিষ্যতে যাতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ না থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের আরও অভিযোগ, এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে, স্বয়ং প্রাক্তন কাউন্সিলারের উপস্থিতিতেই একটি ভ্যানে করে এই সমস্ত জিনিসপত্র দলীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে আবর্জনার স্তূপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও কড়া পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
তদন্তে বেলুড় থানার পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছায় বেলুড় থানার পুলিশ। ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সরকারি নথি এবং সামগ্রী পুলিশ ইতিমধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। ওই সমস্ত কার্ড ও আবেদনপত্রগুলির আসল মালিক কারা এবং কীভাবে সেগুলি সেখানে এল, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার সীমা ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।