জিরো পয়েন্টে আটকে নারী ও শিশুরা! সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ঘিরে চরম মানবিক সংকট

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক পুশব্যাককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চরম মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দাবি, সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় নারী ও শিশু-সহ বেশ কিছু মানুষকে জোর করে সীমান্তের শূন্যরেখার বা জিরো পয়েন্টের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবি তৎপরতার সঙ্গে এই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে।
চরম দুর্ভোগে নারী ও শিশুরা
দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে থাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ জল এবং চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই মানুষেরা। সবথেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিজিবি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ফ্ল্যাগ মিটিং আহ্বান করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান হলো, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তবে দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু নাগরিকত্ব যাচাই না করে একতরফাভাবে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
কোথায় কতজন আটকে রয়েছেন
জুন মাসের ৫ ও ৬ তারিখের বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষদের একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ বঙ্গাবাড়ি সীমান্তে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে ২৮ জন।
- নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁজলয়া সীমান্তে ১৭ জন, যার মধ্যে ৬ জন নারী, ৬ জন পুরুষ ও ৫ জন শিশু রয়েছে।
- লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বড় খাতা সীমান্তে ১১ থেকে ১২ জন।
- লালমনিরহাটের পাটগ্রাম শ্রীরামপুর সীমান্তে ১০ জন।
- লালমনিরহাট আদিতমারী দুর্গাপুর দীঘলমারি সীমান্তে ১২ জন।
- পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জন।
- পেট্রাপোল-বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে ১০-১২ জনকে পুশব্যাক করার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির প্রবল বাধার মুখে বিএসএফ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
মানবাধিকার উন্নয়নমূলক সংস্থা ‘প্রতিকার’-এর মতে, কোনো রকম নাগরিকত্ব যাচাই ও আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ছাড়াই তথাকথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে জিরো পয়েন্টে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই ঘটনা নতুন করে একটি মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনও বিএসএফের এই পুশব্যাকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সাধারণ মানুষকে অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে রাখা চরম অমানবিক কাজ। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে এবং স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি।