রাজনৈতিক মহলে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য! খোদ কলকাতায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে দেখেই উঠল ‘বাপ্পা চোর’ স্লোগান, গ্রেফতার

রাজ্যে রাজনৈতিক মহলে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। এবার তোলাবাজি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতার পাটুলির ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। শুধু তিনিই নন, তাঁর গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টা আগেই একই ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই জোড়া গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে পাটুলি ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের জালে দুই নেতা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলেই প্রথমে তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যুব সভাপতির গ্রেফতারির পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, রাতে পুলিশ ওই ওয়ার্ডের মূল নিয়ন্ত্রক তথা তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করে। শাসক দলের দুই হেভিওয়েট নেতার পরপর গ্রেফতারিতে পাটুলি থানার পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
‘বাপ্পা চোর’ স্লোগানে উত্তাল থানা চত্বর
তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করার পর যখন পাটুলি থানায় নিয়ে আসা হয়, তখন সেখানে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। কাউন্সিলরকে গাড়ি থেকে নামাতেই থানা চত্বরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ধৃত কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে সাধারণ মানুষ ‘বাপ্পা চোর’, ‘বাপ্পা চোর’ বলে সজোরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার চলেছে, এটি তারই সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।
তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর ও যুব সভাপতির বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট রাজ চালানো, সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাড়ি তৈরি করতে যাওয়া সাধারণ বাসিন্দাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করার একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর পাশাপাশি, ছাব্বিশের নির্বাচন মেটার পর এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্মম হামলা ও ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়ানোর পেছনেও এই বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের সরাসরি মদত ছিল বলে অভিযোগ। এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে পেয়েই পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের আইনশৃঙ্খলার ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।