অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কড়া নজরদারি! ডবল টাকা পেতে দিতে হবে পরিবারের সকলের ব্যাঙ্ক ও আয়ের তথ্য

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কড়া নজরদারি! ডবল টাকা পেতে দিতে হবে পরিবারের সকলের ব্যাঙ্ক ও আয়ের তথ্য

রাজ্যে পালাবদলের পরেই মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার খোলনলচে বদলে গেল। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মাসিক ১৫০০ টাকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এখন দ্বিগুণ অনুদান নিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ মহিলার হাতে প্রতীকী চেক তুলে দিয়ে এই প্রকল্পের সূচনা করেন। অনুদানের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি, প্রকৃত প্রাপক নির্ধারণে এবার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শুরু করেছে প্রশাসন।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া যাচাই প্রক্রিয়া

অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে সরকার একটি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সাত দিন অন্তর আবেদনকারীদের তালিকা যাচাই ও সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফর্মে কী কী তথ্য বাধ্যতামূলক?

নতুন ফর্মে কেবল আবেদনকারী নন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্যও তলব করা হয়েছে:

  • ব্যাঙ্ক ডিটেলস: পরিবারের প্রধানের (HOF) পাশাপাশি পরিবারের আরও ৫ জন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড দিতে হবে।
  • আধার সংযুক্তিকরণ: ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার জন্য আধার-লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • পেনশনের তথ্য: পরিবারের কেউ সরকারি পেনশন পান কি না, তা স্পষ্ট জানাতে হবে। উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে সদস্য নম্বর ও পেনশন স্লিপ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • GSTIN ও ব্যবসার তথ্য: পরিবারের কেউ GST-নিবন্ধিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যুক্ত থাকলে ফর্মে GSTIN নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
  • বার্ষিক আয়: ফর্মে আবেদনকারীকে পরিবারের মোট বার্ষিক আয় অঙ্কে লিখে জানাতে হবে।

বিশ্লেষণ: কেন এত তথ্যের প্রয়োজন?

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র অনুদান দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য কোষাগারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হল “টার্গেটেড ডেলিভারি” বা প্রকৃত অভাবীদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।

ফর্মে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক ডিটেলস, সরকারি পেনশন এবং GST সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার নেপথ্যে একটি সুস্পষ্ট কৌশল রয়েছে। পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী হলে বা GST-ভুক্ত ব্যবসা থাকলে, সেই পরিবারের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল বলে ধরে নেওয়া যায়। একই পরিবার যাতে বেআইনিভাবে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পায় এবং করদাতাদের টাকার যাতে অপচয় না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক ‘ছাঁকনি’ বা ফিল্টার তৈরি করা হয়েছে। এককথায়, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র এই নতুন রূপরেখা কেবল জনকল্যাণই নয়, বরং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু বণ্টনেরও একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক মডেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *