স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! সোমবারের বৈঠকের আগে বড় ধাক্কা ইন্ডিয়া জোটে, অস্বস্তি বাড়াল সিপিএম

দিল্লিতে সোমবার বসছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠক। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ দুর্বল হতে থাকা এই জোটের কাছে আগামী দিনের রণকৌশল ঠিক করতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু বৈঠকের ঠিক আগেই একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস তথা গোটা বিরোধী শিবির। একদিকে তামিলনাড়ুর ডিএমকে-র সরে যাওয়া, অন্যদিকে কেরলের ইস্যু টেনে সিপিএমের ‘পত্রবোমা’—সব মিলিয়ে বৈঠক শুরুর আগেই বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে জোটের অন্দরে।
স্ট্যালিন আউট, জোটে এবার বিজয়ের এন্ট্রি?
জোটের অন্যতম প্রধান শরিক তামিলনাড়ুর ডিএমকে এবার ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে কার্যত সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে বৈঠকে কংগ্রেস থাকবে, সেখানে তারা অংশ নেবে না। স্বাভাবিকভাবেই সোমবারের বৈঠকে থাকছেন না ডিএমকে প্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নিজেদের জমি ধরে রাখতে বিকল্প খুঁজছে কংগ্রেস। লোকসভায় কোনও সাংসদ না থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তামিলনাড়ুর নতুন রাজনৈতিক দল টিভিকের প্রধান বিজয়কে বৈঠকে হাজির করার জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্ট্যালিনের অনুপস্থিতি ঢাকতেই এই ‘বিজয় ইন’-এর ছক কষছে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কংগ্রেসকে সিপিএমের পত্রবোমা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ডিএমকে-র ধাক্কার রেশ কাটার আগেই কংগ্রেসের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সিপিএম। কেরলম বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বামেদের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। এবার সেই অভিযোগের প্রকাশ্য ব্যাখ্যা চেয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি পাঠিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের মঞ্চে শরিক দলের বিরুদ্ধে এমন কুৎসা জোটের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে। যদিও সিপিএম জানিয়েছে তারা জোটে থাকছে, তবুও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে এই চিঠি প্রকাশ্যে আসায় বিরোধী ঐক্যের বার্তায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। আগামী দিনের লড়াইয়ে শরিকদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ক্ষোভের মেঘ কংগ্রেস কীভাবে কাটায়, এখন সেটাই দেখার।