বিধ্বংসী ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরবঙ্গ ও সিকিম! ধসে মৃত ১, তিস্তায় নিখোঁজ ৪

টানা ভারী বৃষ্টি, বিধ্বংসী ঝড় এবং হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবার গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি আসার পথে তিস্তা নদীতে গাড়ি উলটে এক পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এনডিআরএফ। অন্যদিকে, শনিবার সকালে সিকিমের দিকচু-সিংতাম সড়কের রাংচাং ভির এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্লাবন ও ধসে ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সেবকে সর্বোচ্চ ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও কুমারগ্রাম, মালবাজার সহ বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। এই লাগাতার বৃষ্টির জেরে সেবকে ধস নামায় প্রায় তিন ঘণ্টা শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিম ও ডুয়ার্সের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় হড়পা বানে মালবাজারের রাজা চা বাগান এলাকা এবং জাতীয় সড়কের একাংশ জলে তলিয়ে যায়। ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সুখানী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। এর ফলে ডুয়ার্সের নাগরাকাটায় সুখানী বস্তির কাছে একটি বাঁধ ভেঙে গ্রামে হুহু করে জল ঢুকে বহু বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি এলাকাতেও রাতের প্রবল ঝড়ে অন্তত ২৫টি কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং উপড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।
প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনমানসে আতঙ্ক
দুর্যোগের খবর পেয়ে রাতেই নাগরাকাটার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান বিডিও এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতির কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছর ৫ অক্টোবর নাগরাকাটায় হড়পা বানে ১২ জনের মৃত্যুর ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। মূলত ভৌগোলিক অবস্থান ও অতিবৃষ্টিই এই দুর্যোগের প্রধান কারণ হলেও, বারবার এমন ঘটনা পাহাড় ও তরাইয়ের দুর্বল পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক কৃষিক্ষতি ও বাসস্থানের ধ্বংসসাধন স্থানীয় অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।