‘যেভাবে কাজ করছেন আমি খুব খুশি’, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে প্রশংসায় ভরালেন বুদ্ধ-জায়া মীরা!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক অভাবনীয় চিত্র। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। মহিলাদের বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি এত দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি মুগ্ধ। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে মীরা ভট্টাচার্যের এই দরাজ প্রশংসার মূল কারণ হলো, নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের দ্রুত রূপায়ণ। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে গিয়ে উন্নয়নমুখী এক ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গুরে শিল্পের সম্ভাবনা ও অতীত আক্ষেপ
বিগত ১৫ বছরের পূর্বতন সরকারের শাসনকালের সমালোচনা করে তিনি বাম আমলের নন্দন বা দ্বিতীয় হুগলি সেতুর মতো উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। আক্ষেপের সুরে মীরা ভট্টাচার্য জানান, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের লক্ষ্য ছিল কৃষির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রাজ্যে শিল্পায়ন করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যেতে না হয়। সিঙ্গুরে অটোমোবাইল কারখানা না হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের বর্তমান অনুশোচনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে বর্তমান সরকার সিঙ্গুরে ফের শিল্প ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বুদ্ধ-জায়া। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলার অর্থনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী। শিল্পের পাশাপাশি বেহাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও নতুন সরকারকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বামফ্রন্টের ভবিষ্যৎ ও নবীন প্রজন্মের উত্থান
নিজের দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী মীরা ভট্টাচার্য। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর এবং মুস্তাফিজুর রহমানের মতো তরুণ প্রজন্মের নেতারা যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের এই নিরলস জনসংযোগ ও লড়াই রাজ্যে বামফ্রন্টকে ফের পুনরুজ্জীবিত করবে। পরিশেষে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দেখা বাংলার সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন যদি নতুন সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার হয়, তবে তাকে দলমত নির্বিশেষে সমর্থন করতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মীরা ভট্টাচার্য।