জোড়াসাঁকোয় টানটান উত্তেজনা, কাউন্সিলরের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি!

জোড়াসাঁকোয় টানটান উত্তেজনা, কাউন্সিলরের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি!

কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনের কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন বাসভবনে রবিবার সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা। ভোর ৬টা নাগাদ জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছালেও দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল অচলাবস্থা। দরজা না খোলায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়লেন ওই তৃণমূল জনপ্রতিনিধি।

জিজ্ঞাসাবাদের নেপথ্যে পকসো মামলা

এই আকস্মিক অভিযানের নেপথ্যে উঠে আসছে পকসো আইনের অধীনে রুজু হওয়া একটি মামলা। স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবারই এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগে কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পুলিশ জসিমউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ রেখে তিনি এই জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার রাতের ওই গ্রেফতারিই রবিবার সকালে এক বড়সড় আইনি মোড় নেয়।

ক্ষোভের আঁচ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কাউন্সিলরের বাড়ির বাইরে সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে। অনেকেই হাতে ডিম নিয়ে বাড়ির সামনে ভিড় করেন, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। পুলিশি উপস্থিতির মাঝেও বিক্ষোভকারীদের এই উপস্থিতি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভার একের পর এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাটুলির কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেফতারির পর এটি সাম্প্রতিকতম ঘটনা, যা তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। একের পর এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ির এই বার্তা স্থানীয় স্তরে তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় আঘাত নেমে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *