ভোটের ভরাডুবির পর মমতার কমিটিতে ব্রাত্য উত্তরবঙ্গ, ঘাসফুল শিবিরে ক্ষোভের আগুন!

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলের নতুন কোর কমিটি ও শাখা সংগঠনগুলোতে উত্তরবঙ্গের নেতাদের কার্যত ব্রাত্য রাখায় চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে ঘাসফুল শিবিরে। গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের খারাপ ফলের মধ্যেও অন্য জেলার নেতারা নতুন কমিটিতে জায়গা পেলেও উত্তরবঙ্গ থেকে একমাত্র গৌতম দেব ছাড়া আর কোনও নেতার ঠাঁই হয়নি, যা দলের অন্দরেই প্রবল ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নেতৃত্বের ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিযোগ
নতুন কমিটি ঘোষণার পরেই উত্তরবঙ্গের নেতাদের প্রতি এই বঞ্চনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা থেকে একজনও যোগ্য ব্যক্তি রাজ্য কমিটিতে জায়গা পাননি। রাজবংশী, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতি দলের এমন অবহেলা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, গোটা রাজ্যে তৃণমূলের শোচনীয় ফলের মধ্যেও উত্তর দিনাজপুর জেলা নয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জিতে দলের মান রক্ষা করেছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য কমিটিতে এই জেলার কোনও প্রতিনিধি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান। তাঁর মতে, খারাপ সময়ে দলের হাল ধরা নেতাদের পুরস্কৃত করার বদলে উলটে উপেক্ষাই করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের শঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল করে দিতে পারে। উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের দাপটে তৃণমূল এমনিতেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় নেতৃত্বকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ফলে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। পাশাপাশি, বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের প্রতি শাসকদলের যে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ করে আসছিল, নতুন কোর কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সেই অভিযোগই যেন প্রকাশ্যে মান্যতা পেল। এই ক্ষোভ প্রশমন করতে না পারলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে উঠতে পারে।