‘আমি নয় আমরা’, সরকারি কাজে দলীয় কর্মীদের কড়া নজরদারির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

‘আমি নয় আমরা’, সরকারি কাজে দলীয় কর্মীদের কড়া নজরদারির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

রাজ্যে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি ‘আমি নয়, আমরা’ নীতিতে বিশ্বাসী। তাই সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজের মূল্যায়নে এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা দেখতে কর্মীদের দু’চোখ খোলা রেখে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

দল ও সরকারের সুদৃঢ় সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপির সংকল্প পত্রে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। এই লক্ষ্যপূরণে জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় সংগঠনের মধ্যে একটি সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশনার মূল কারণ হলো নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয় করে তোলা এবং প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে এবং আমলাতন্ত্রের ওপর দলের এক ধরণের পরোক্ষ নজরদারি তৈরি হতে পারে, যা দুর্নীতি রোধে বড় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের একাংশের অহংকার বা ‘নেতাবাচক’ মানসিকতা পরিহার করে সংযত থাকার পরামর্শও দেন তিনি।

তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক আক্রমণ

প্রশিক্ষণ শিবির থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে বিগত সরকারের আমলে হওয়া নানাবিধ দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই ব্যাপক দুর্নীতি সামনে আসছে। এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং বিধবা ভাতার মতো প্রকল্পের টাকাও হাজার হাজার ভুয়ো পুরুষ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও অনিয়ম দূর করতেই তিনি দলীয় কর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *