লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন ৩ লক্ষ পুরুষ! তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পের টাকা বেআইনিভাবে পুরুষদের অ্যাকাউন্টেও নিয়মিত ঢুকত বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। রবিবার নিউটাউনে আয়োজিত এক দলীয় সভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দুর্নীতির শেকড় এতটাই গভীরে যে দোষীদের বন্দি রাখতে গোটা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেই জেলখানায় পরিণত করতে হতে পারে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বেনজির জালিয়াতি
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূল আমলে মোট ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্তত ৩ লক্ষ পুরুষ! সরকারি কোষাগারের টাকা কীভাবে কোনো রকম যাচাই ছাড়াই বিলি করা হয়েছে, তার প্রমাণ হিসেবে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। শুধুমাত্র ওই একটি ব্লকেই প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান পেয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। এই পরিসংখ্যান পূর্বতন প্রশাসনের চরম গাফিলতি, স্বজনপোষণ এবং সরকারি তহবিলের যথেচ্ছ অপব্যবহারের দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুর্নীতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের দুর্নীতির তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে হাত দিচ্ছি সেখান থেকেই পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।” প্রশাসনিক স্তরে এই বিপুল মাত্রার জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার টাকা কোনো রকম বৈধতা ছাড়া পুরুষদের পাইয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় বড়সড় তদন্তের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ উদ্ধারে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিলে আগামী দিনে পূর্বতন শাসকদলের বহু নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিক কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।