২ লক্ষ টাকা ছাড়াবে সোনার দাম, হলদে ধাতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা বিশেষজ্ঞদের!

২ লক্ষ টাকা ছাড়াবে সোনার দাম, হলদে ধাতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা বিশেষজ্ঞদের!

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লক্ষ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এই দাম আরও বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দাম বাড়লেও কমছে না সোনার চাহিদা

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছা সত্ত্বেও ভারতীয়দের সোনা কেনার আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম এবং বিয়ের মৌসুমে সোনার চাহিদা সবসময় তুঙ্গে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার দাম ১.৫০ লক্ষ থেকে ১.৬০ লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা আগের মতোই অটুট রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য দেশটি মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং মুদ্রার মানের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ভারতীয়দের ঘরে ও লকারে প্রায় ৩২,০০০ টন সোনা সংরক্ষিত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সম্পদ। এই বিশাল পরিমাণ সোনা যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস ও করণীয়

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের ফাউন্ডার সুগন্ধা সচদেবার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যেই সোনার দাম ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছুঁতে পারে। এই অবস্থায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে শিল্প বিশেষজ্ঞরা বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। মেহরাসন্স জুয়েলার্সের এমডি অজয় মেহরা মনে করেন, শুধুমাত্র আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে চাহিদা কমানো সম্ভব নয়, বরং তাতে বিশ্ববাজারে ভারতীয় গহনা শিল্পের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা কমতে পারে। তাই তিনি শূন্য আমদানি শুল্কের পক্ষে মত দিচ্ছেন। অন্যদিকে, মুথুট এক্সিমের সিইও কেয়ুর শাহ-এর মতে, দেশের ঘরে পড়ে থাকা সোনা বাজারে ফিরিয়ে আনতে কর কাঠামোতে বড় ধরনের বদল আনা জরুরি। বর্তমান ৩ শতাংশ জিএসটি এবং বিক্রয় কর সাধারণ মানুষকে সোনা রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে। কর কাঠামো সহজীকরণ করা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *