বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ির সামনে ‘পর্ক উৎসব’, পাল্টা তোপ দেগে কী বললেন বামনেতা

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বহু বছর আগে ধর্মতলার প্রকাশ্য মঞ্চে গোমাংস খেয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও বামনেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বাড়ির সামনে ‘পর্ক উৎসব’ পালনের অভিযোগ উঠল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অরাজনৈতিক সংগঠন ‘জাতির কথা’-র দাবিদার কয়েকজন যুবক বামনেতার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুয়োরের মাংস খেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও প্রতিবাদ
ভাইরাল ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, যুবকরা দাবি করছেন যে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিতে গিয়ে বিকাশবাবু যেভাবে গোমাংস খেয়েছিলেন, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, মুসলিম তোষণ করতেই ওই বামনেতা গোমাংস খেয়েছিলেন। নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দেওয়া এক যুবক চিৎকার করে বিকাশবাবুকে বাড়ি থেকে বাইরে আসার জন্য আহ্বান জানান এবং কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদীদের একাংশের দাবি, গোমাংস খাওয়ার মাধ্যমে যে ‘অপমান’ করা হয়েছিল, তারই জবাব দেওয়া হয়েছে এই উৎসবের মাধ্যমে।
নিজের অবস্থানে অনড় বামনেতা
সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সরাসরি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি অত্যন্ত শ্লেষের সঙ্গে লিখেছেন, ‘কিছু সনাতনী দাবিদার আমার বাড়ির সামনে এসে শুয়োরের মাংস খেয়ে প্রমাণ করলেন যে, সনাতনী হলে শুয়োর খেতে আপত্তি নেই। স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে চর্চা করলেই বোঝা যেত গরুর মাংস খাওয়ার মধ্যে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়।’ সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিবেকানন্দের শিক্ষা ও আদর্শের সঠিক চর্চা হচ্ছে কি না তা নিয়ে।
বিকাশবাবুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং বৃহত্তর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে সমাজে মেরুকরণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ আরও জটিল হতে পারে। তবে বামনেতার এই কড়া জবাব বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েও নিজের মতাদর্শ থেকে একচুলও সরতে রাজি নন।