‘সিঙ্গুরের মানুষ তাদের ভুল বুঝেছে’, নতুন সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মীরা ভট্টাচার্য

‘সিঙ্গুরের মানুষ তাদের ভুল বুঝেছে’, নতুন সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মীরা ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনমুখী পদক্ষেপ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

মীরা ভট্টাচার্য্যের মন্তব্যের মূল দিকগুলো:

  • সরকারের কাজের প্রশংসা: মীরাদেবী নতুন সরকারের কাজের গতি এবং ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত রূপায়ণের সদিচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য নিখরচায় বাস পরিষেবার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে যে-ই রাজ্যের কল্যাণে কাজ করবে, সে-ই শ্রদ্ধার পাত্র।”
  • সিঙ্গুর প্রসঙ্গ ও শিল্পায়ন: বিতর্কিত সিঙ্গুর আন্দোলন প্রসঙ্গে মীরা ভট্টাচার্য বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “সিঙ্গুরের মানুষ এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। সেদিন তাঁদের কীভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল, তা তাঁরা এখন উপলব্ধি করছেন।” তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন, যদি সিঙ্গুরে টাটার গাড়ি কারখানা গড়ে উঠত, তবে বাংলার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যেত এবং যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হতো না। বর্তমান সরকার সিঙ্গুরে পুনরায় শিল্পায়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকেও তিনি সমর্থন করেছেন।
  • বাম আমলের ঐতিহ্য ও বিতর্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের সঙ্গে বাম আমলের ৩৪ বছরের জমানার তুলনার বিরোধিতা করে তিনি বামফ্রন্টের বিভিন্ন অবদান—যেমন নন্দন, বিদ্যাসাগর সেতু এবং সাহিত্য অ্যাকাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা স্মরণ করান। তাঁর দাবি, বাম আমলেই কৃষিতে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষে পৌঁছেছিল এবং সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উদ্বেগ: বিগত ১৫ বছরে রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে ‘অবক্ষয়’ ঘটেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মীরাদেবী নতুন সরকারকে এই দুই ক্ষেত্র সংস্কারে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
  • বামফ্রন্টের ভবিষ্যৎ: রাজ্যের বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মীরাদেবী। তিনি জানান, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর এবং মুস্তাফিজুর রহমানের মতো তরুণ ও লড়াকু নেতৃত্ব নিচুতলায় দলের জমি শক্ত করতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।

পরিশেষে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্ন ছিল বাংলার সর্বাঙ্গীণ অগ্রগতি। নতুন সরকার যদি বাংলার সেই হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে বাংলার সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই তাকে সাদরে গ্রহণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *