‘রাজনীতির সাপ্লাই লাইন বন্ধ করা চলবে না’, অবিলম্বে ছাত্র ভোটের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠির হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বছরের পর বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন (Students Union Election)। শিক্ষাঙ্গনে এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অবিলম্বে অবাধ ছাত্র ভোটের দাবিতে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দলমত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক পক্ষকে এক ছাতার তলায় এসে ছাত্র সংসদের ভোটের পক্ষে সওয়াল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অতীতে কার কী ভুল ছিল, তা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে এখন মূল নজর দেওয়া উচিত দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার দিকে।
ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অশোক দেব, তাপস রায় কিংবা শঙ্কর ঘোষের মতো একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদ উঠে এসেছেন এই ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরেই। মূলত ছাত্র রাজনীতিই হলো মূল ধারার রাজনীতির আসল ‘সাপ্লাই লাইন’। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক কাঠামো যেমন ভেঙে পড়ে, তেমনই নেতৃত্বের বিকাশও থমকে যায়। নিয়মিত ভোট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অ-ছাত্র ও অ-শিক্ষক কর্মীরাই ইউনিয়নের রাশ হাতে নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শেষবার সব কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কেবল যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট হলেও তা-ও বহু বছর আগের ঘটনা। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বহু ক্যাম্পাসের ইউনিয়ন রুমে তালা পর্যন্ত ঝোলানো হয়েছে।
সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে সরকারি কলেজগুলির পুরনো পরিচালন সমিতি ভেঙে নতুন সমিতি গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রশাসনিক রদবদলের পর রাজ্য সরকার আদৌ দ্রুত ছাত্র নির্বাচন করানোর পথে হাঁটে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।