‘কেউ আকর্ষণীয় না বললে আমার খারাপ লাগবে’, বিতর্কিত ‘পেদ্দি’ নিয়ে মুখ খুলে ট্রোলের মুখে জাহ্নবী

পেদ্দি চলচ্চিত্রে জাহ্নবী কাপুরের দৃশ্য নিয়ে বিতর্কের ঝড়
রাম চরণের বিপরীতে ‘পেদ্দি’ সিনেমায় অভিনয়ের পর থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জাহ্নবী কাপুর। ছবিটির মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। বিশেষ করে, সিনেমায় জাহ্নবীর চরিত্র উপস্থাপন এবং ক্যামেরার অতি-জুম ব্যবহারের মাধ্যমে তার শরীরের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ নিয়ে দর্শকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে পরিচালক বুচি বাবু বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে জানান, দর্শকদের অস্বস্তি বা অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না এবং দর্শকদের মতামতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
পর্দায় আবেদন বনাম বাস্তব জীবনের অস্বস্তি
পরিচালকের ব্যাখ্যার পাশাপাশি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে জাহ্নবী কাপুরের একটি পুরনো পডকাস্টের ভিডিও। সেখানে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, পর্দায় আবেদনময়ী হয়ে ওঠা তার পেশাগত পছন্দের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, শাড়ি পরা কিংবা গানে আবেদনময়ী ভঙ্গিতে নাচা কোনো অপরাধ নয়, বরং কেউ তাকে আকর্ষণীয় মনে না করলেই তিনি বরং হতাশ বোধ করতেন। তবে তার মূল আপত্তি ব্যক্তিগত পরিসরে এবং সম্মতির অভাবে। জাহ্নবীর মতে, শুটিং সেটে নির্দিষ্ট দৃশ্যের বাইরে গিয়েও ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে তার অনুমতি ছাড়াই যেভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেটিই উদ্বেগের কারণ।
বিতর্কের প্রভাব ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
জাহ্নবীর এই মন্তব্যের পর নেটদুনিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়। একদিকে যেমন একদল দর্শক মনে করছেন সিনেমা বা বিজ্ঞাপনে গ্ল্যামার বিক্রি করা স্বাভাবিক একটি বিষয়, অন্যদিকে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ জাহ্নবীর এই দ্বিমুখী অবস্থানে ক্ষুব্ধ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সিনেমার দৃশ্যায়নের সময় পরিচালক ও চিত্রনাট্য সম্পর্কে অবগত থাকার পরও কেন এখন দায়ভার অন্যদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে তার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে অনেককে। মূলত গ্ল্যামার এবং সম্মতির সূক্ষ্ম সীমারেখা নিয়ে এই বিতর্ক এখন বিনোদন জগতে বড় এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।