মৃত্যুর ১০০ দিন পরও সমাধিস্থ করা হয়নি খামেনেইকে! কেন গোপন রাখা হচ্ছে তাঁর শেষকৃত্যের তারিখ?

শায়িত অবস্থায় ১০০ দিন! কেন আজও সমাধিস্থ করা হয়নি আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে?
দীর্ঘ ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে শেষ বিদায় জানানো সম্ভব হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ একই হামলায় নিহত অন্যান্য সেনাকর্তা ও আধিকারিকদের ইতোমধ্যে ধর্মীয় রীতি মেনে সমাধিস্থ করা হয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মরদেহ কেন আজও প্রকাশ্যে বা সমাধিস্থ অবস্থায় আনা হলো না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য ও জল্পনা।
রাজনৈতিক জটিলতা ও নিরাপত্তার সংকট
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইর শেষকৃত্য কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি একটি বড় মাপের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ। শিয়া ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পরপরই দেহ সমাধিস্থ করার নিয়ম থাকলেও, ইরানের বর্তমান নড়বড়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে তাঁর উত্তরাধিকারী এবং পুত্র মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই হামলায় মোজতবা গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। উত্তরাধিকারীর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ছাড়া শেষকৃত্য সম্পন্ন করলে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের শোভাযাত্রা বা জমায়েত আয়োজন করাও বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রহস্য
আয়াতোল্লার মরদেহ ঠিক কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে ইরান সরকার এখনো কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হামলাস্থলের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পর দেহাংশ পাওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা শনাক্ত করতে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি বা শনাক্তকরণের জটিলতাই শেষকৃত্যে বিলম্বের অন্যতম কারণ। তবে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না জানানোয় এই দীর্ঘ নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সবশেষে উত্তর-পূর্বের মাশাদে তাঁকে সমাহিত করার পরিকল্পনা থাকলেও, অনিশ্চিত যুদ্ধের আবহে চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো অধরাই রয়ে গেছে।