ব্রেথলাইজারে ফুঁ দিতে ব্যর্থ মদ্যপ চালক, ট্রাফিক পুলিশের সপাটে চড় ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক!

ব্রেথলাইজারে ফুঁ দিতে ব্যর্থ মদ্যপ চালক, ট্রাফিক পুলিশের সপাটে চড় ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক!

মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর জেরে দুর্ঘটনা এড়াতে রাতের শহরে কড়া নজরদারি চালায় ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু সেই পরীক্ষা করতে গিয়েই হায়দরাবাদে ঘটল এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনা। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে তাঁর শ্বাসবায়ু পরীক্ষা করার সময় পুলিশের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের চড়

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের শহরে একটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ দল মদ্যপ চালকদের শনাক্ত করতে ব্রেথলাইজার দিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। সেখানে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিকে আটক করে তাঁর মুখের সামনে যন্ত্রটি ধরা হলে, তিনি অতিরিক্ত নেশার কারণে নিজের শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি যন্ত্রটিতে সঠিকভাবে ফুঁ দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং চোখ বন্ধ করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী আচমকাই রেগে গিয়ে ওই ব্যক্তির গালে সপাটে একটি চড় কষান। চড়ের অভিঘাতে ওই ব্যক্তি পড়ে যেতে গেলেও কোনোমতে নিজেকে সামলে নেন। ‘রেবতিট্যুইটস’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর তা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আইন বনাম নাগরিক অধিকারের বিতর্ক

এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে স্পষ্ট দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বারবার মদ্যপ চালকদের অসচেতনতা ও ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করার প্রবণতাকে দায়ী করা হলেও, পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলছেন যে, মদ্যপ চালকদের খামখেয়ালিপনার কারণে রাস্তায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়, তাই এদের নিয়ন্ত্রণে এমন আচরণ অন্যায্য নয়। অন্যদিকে, নাগরিক অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে অনেকেই বলছেন, ব্যক্তি মদ্যপ বা অপরাধী হলেও তাঁর গায়ে হাত তোলার আইনি অধিকার পুলিশের নেই। এই ঘটনাটি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যের অভাবকে যেমন সামনে এনেছে, তেমনই রাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল ও নিয়মতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে জোরালো করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *