যাদবপুরে মধ্যরাতে বুলডোজার ও পুলিশের লাঠিচার্জ! ফুটপাত দখল নিয়ে কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের

যাদবপুরে মধ্যরাতে বুলডোজার ও পুলিশের লাঠিচার্জ! ফুটপাত দখল নিয়ে কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের

রবিবার মধ্যরাতে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যাদবপুর স্টেশন চত্বর। রেলের জমিতে থাকা বেআইনি দোকানপাট ভাঙতে মধ্যরাতেই এলাকায় পৌঁছয় বুলডোজার। উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাম ও কংগ্রেস নেতারা একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের লাঠিচার্জে তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপরই একে একে ভেঙে ফেলা হয় নোটিশ পাওয়া নির্মাণগুলি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আটক হন বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ আরও বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উচ্ছেদের কারণ ও সরকারের অবস্থান

দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও স্টেশন চত্বর জবরদখল হয়ে থাকার কারণেই মূলত এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের জন্য ফুটপাত ও স্টেশন দখল হয়ে থাকলে জনজীবন স্তব্ধ হয় এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয়। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষকে বিকল্প জায়গা দেওয়া সরকারের পক্ষে সব সময় সম্ভব নয়, তাই সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দখলকারীদের আগে বেআইনি জায়গা ছাড়তে হবে।

বিক্ষোভ, সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সোচ্চার বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতাদের দাবি ছিল, যথাযথ পুনর্বাসন বা কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে কোনওভাবেই হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। এর আগেও তাদের বাধায় বুলডোজার ফিরে গিয়েছিল। তবে রবিবার রাতের এই পুলিশি অ্যাকশন ও বুলডোজার চালানোর ফলে একদিকে যেমন বহু হকার রাতারাতি জীবিকাহীন হওয়ার মুখে পড়লেন, তেমনই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেল। বিনা পুনর্বাসনে এই উচ্ছেদ পর্ব আগামী দিনে রাজ্যে শাসক বনাম বিরোধীদের মধ্যে বৃহত্তর সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *