মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা! ১৫-১৬ জন সাংসদ নিয়ে বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, এক নজরে সম্ভাব্য দলত্যাগীরা

মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা! ১৫-১৬ জন সাংসদ নিয়ে বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল, এক নজরে সম্ভাব্য দলত্যাগীরা

তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন, মমতা-অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দল ছাড়ার পথে ১৬ সাংসদ

বিধানসভা ভোটের ফলাফলের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রবল সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় ধরনের ভাঙন ধরার উপক্রম হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন সাংসদ দল ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং সোমবারই তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক কৌশলে ভাঙনের সময় নির্ধারণ

দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠককে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সুযোগকেই ভাঙনের জন্য বেছে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। দলের সংসদীয় নেতা হিসেবে অভিষেকের কর্তৃত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতেই এই সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে জোড়াফুল শিবিরের এই বিধায়কদের পদ্ম শিবিরে যুক্ত করার তোড়জোড় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কারা ছাড়ছেন জোড়াফুল

দলীয় সূত্রে খবর, দলত্যাগের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী ও দেবের মতো প্রভাবশালী নেতারা। এছাড়াও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, ইউসুফ পাঠান ও শর্মিলা সরকারের নাম উঠে আসছে। এমনকি, বিদেশ সফরের আগেই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ সেরে ফেলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকার বাইরে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গেও বিজেপি নেতৃত্বের সখ্যতা তৈরি হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে ভিন্ন কৌশল

সবচেয়ে বড় চমক আসতে চলেছে মুর্শিদাবাদ বেল্ট থেকে। নবান্ন ও দিল্লির রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, আবু তাহের ও খলিলুর রহমান সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও মমতা-অভিষেকের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখবেন না বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন। সংসদের অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে তাঁদের নিরপেক্ষ অবস্থান তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের ব্যর্থতার দায় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির বিরুদ্ধেই এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। আজ দিনভর এই ঘটনাক্রম কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *