সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা, রেফারের জেরে রোদে স্ট্রেচার টানলেন বাবা-মা!

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা, রেফারের জেরে রোদে স্ট্রেচার টানলেন বাবা-মা!

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর চরম বেহাল দশা এবং অমানবিকতার এক ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ১২ বছরের অসুস্থ ছেলেকে স্ট্রেচারে শুইয়ে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা টানতে বাধ্য হলেন অসহায় বাবা-মা। প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল থেকে ন্যূনতম অ্যাম্বুলেন্স বা স্ট্রেচার টানার কর্মী না মেলায় এই চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় পরিবারটিকে।

রেফারের নামে চূড়ান্ত হয়রানি

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শিরদাঁড়ার মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত কিশোর আদর্শ গত ১৫ দিন ধরে ইন্দোরের মহারাজা যশবন্তরাও (এমওয়াই) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে পাশের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করেন। অভিযোগ, স্থানান্তর প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও অ্যাম্বুলেন্স বা স্বাস্থ্যকর্মী প্রদান করেনি। বাধ্য হয়ে গনগনে রোদের মধ্যে ছেলেকে বাঁচাতে মা বারবার নিজের ভেজা ওড়না ছেলের গায়ের ওপর বিছিয়ে দেন এবং বাবা নিজেই স্ট্রেচার ঠেলে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর কর্মীরা জানান, রোগীকে আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না, শুধুমাত্র চিকিৎসার নথিপত্র দেখলেই চলত। এরপর উপায় না দেখে পুনরায় ওই কাঠফাটা রোদের মধ্যেই ছেলেকে স্ট্রেচারে করে এমওয়াই হাসপাতালে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন ওই দম্পতি।

হাসপাতালের উদাসীনতা ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমওয়াই হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইন-চার্জ উভয়েই তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বরাবরের মতো দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর চরম অব্যবস্থা এবং দায়িত্বহীনতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এর আগেও এমওয়াই হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের স্ট্রেচার টানা, নার্সের গাফিলতিতে শিশুর আঙুল কাটা পড়া এমনকি এনআইসিইউ-তে ইঁদুরের কামড়ে নবজাতকের মৃত্যুর মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকার আধুনিক পরিকাঠামোর দাবি করা হলেও, ন্যূনতম পরিষেবা এবং সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষের মনে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি তীব্র অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। একের পর এক এহেন গাফিলতি দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *