বিস্ফোরক মদ কেলেঙ্কারি! ‘বোতলে ৩ টাকা অতিরিক্ত আয়, সব টাকা পৌঁছত অভিষেকের কাছে’, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

মদ কেলেঙ্কারিতে বিস্ফোরক অভিযোগ, নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
রাজ্যের আবগারি ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এসেছে, মদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো, যার একটি বড় অংশ পৌঁছাত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অস্বচ্ছতার জালে আবগারি নীতি
২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে আবগারি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গঠন করা হয়। অভিযোগ, নতুন এই কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর ডিস্ট্রিবিউটরদের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপরও অতিরিক্ত রাজস্বের বোঝা চাপানো হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, মদের প্রতিটি বোতলের ওপর বাড়তি ৩ টাকা করে আদায় করা হতো, যার কোনো সরকারি হিসাব নেই। মূলত একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমেই এই টাকা সংগ্রহ করা হতো এবং সেই চক্রের সঙ্গে ফলতার জাহাঙ্গির খানের নামও জড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হতো যে, নেতাদের নির্দেশমতো অর্থ না দিলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
সরকার বদলের পর সরব শিল্পমহল
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে রাজ্যের আবগারি কমিশনারকে চিঠি দিয়ে এই অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছে। নতুন সরকারের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরই এখন এই কেলেঙ্কারির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সরাসরি এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য, কারণ এই আর্থিক অনিয়ম সরাসরি রাজ্যের রাজস্ব এবং ব্যবসায়ী মহলের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।