‘জুতো মারা উচিত, আপাদমস্তক ধান্দাবাজ!’, বাপ্পাদিত্যর গ্রেপ্তারে বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়

বাপ্পাদিত্যর গ্রেপ্তারি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, জুতো মারার নিদান দিয়ে মুখ খুললেন পার্থ
কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রবিবার আলিপুর আদালতে পেশ করার সময় বাপ্পাদিত্যকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা। তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয় এবং ডিম ছোড়ার মতো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত বাপ্পাদিত্য ও তাঁর সহযোগী সৌরভ ঘোষকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার একটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো, আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনো আইনজীবী এগিয়ে আসেননি, যা বিষয়টি নিয়ে জনমানসে প্রবল কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য
বাপ্পাদিত্যর গ্রেপ্তারি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর সবথেকে বেশি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার বিরুদ্ধে পার্থ চট্টোপাধ্যায় রীতিমতো তোপ দেগেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বাপ্পাদিত্যকে শুধু ডিম নয়, জুতো মারা উচিত। তাঁকে ‘আপাদমস্তক ধান্দাবাজ’ বলে কটাক্ষ করে পার্থ দাবি করেন, বাপ্পাদিত্যর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি সত্য বলেই মনে করেন।
জমি দখল ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন
প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, তাঁর কাছে বাপ্পাদিত্যর বিরুদ্ধে ৩৩টি জমির প্লট দখলের অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনিই একসময় মমতাকে অনুরোধ করে বাপ্পাদিত্যর টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু সেই বাপ্পাদিত্যই পরবর্তীকালে তাঁর নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। পার্থর এই মন্তব্যের ফলে দলের ভেতরে থাকা পুরোনো সম্পর্কের সমীকরণ নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগগুলো এবং দলীয় নেতৃত্বের সাথে এই দূরত্ব আগামী দিনে শাসকদলের অন্দরে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দেয় কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে।