চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর! বাংলায় কোন কোন ক্ষেত্রে বিপুল নিয়োগ? বড় ভবিষ্যদ্বাণী অর্ঘ্য সরকারের

কলকাতায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির শিরোপা পেল রিক্রুটমেন্ট মন্ত্র, বাংলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের বড় বার্তা অর্ঘ্য সরকারের
কলকাতার রবীন্দ্র তীর্থ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বুদ্ধ পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ মঞ্চে “Best Recruitment Agency in West Bengal” সম্মানে ভূষিত হয়েছে রিক্রুটমেন্ট মন্ত্র (Recruitment Mantra)। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী দিলীপ ঘোষের হাত থেকে এই আন্তর্জাতিক সম্মান গ্রহণ করেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা মানব সম্পদ বিশেষজ্ঞ অর্ঘ্য সরকার। চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, যুব সমাজকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সংস্থাকে আরপিও (RPO) পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি, বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী, অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মৈত্রী পিস ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, সমাজে শান্তি ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি এবং যুব সমাজকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই পুরস্কারের পর সংস্থার দায়িত্ব আরও বাড়ল বলে মন্তব্য করেন টেডএক্স (TEDx) স্পিকার ও মানব সম্পদ বিশেষজ্ঞ অর্ঘ্য সরকার।
২০২৬-২৭ সালের মধ্যে নিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা
সম্মান গ্রহণের পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন অর্ঘ্য সরকার। তাঁর মতে, নতুন সরকার গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গের চাকরির বাজারে বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রে নিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউন আগামী দিনে পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ হাব হিসেবে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্প বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রভাব
রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রধান কারণ ও তার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে শিল্পবান্ধব পরিবেশের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্ঘ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো শিল্পপতি বা ব্যবসায়িক সংস্থা বিনিয়োগের আগে নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিচার করে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং তার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের উপর।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দুর্গাপুর, হলদিয়া, শিলিগুড়ি, খড়গপুর ও ডানকুনির মতো শিল্পাঞ্চলেও লজিস্টিকস বৃদ্ধির ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিপুল কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো আধুনিক ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানমুখী নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।