এবার NDA-র শরিক হতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ! স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে বোমা ফাটালেন ‘বিক্ষুব্ধ’রা

এবার NDA-র শরিক হতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ! স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে বোমা ফাটালেন ‘বিক্ষুব্ধ’রা

দিল্লিতে মহানাট্য, লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এনডিএ জোটে সামিল হতে চান তৃণমূলের ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদ!

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার জাতীয় স্তরে নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে টানাপোড়েন যখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, ঠিক তখনই লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল জোড়াফুল শিবির। দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে দলত্যাগের চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের ২০ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ। সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও তাঁরা এনডিএ-র (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) শরিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চান বলে স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন।

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান কৌশল নিয়ে দলের প্রবীণ ও নবীন সাংসদদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সোমবার দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি গোপন বৈঠকের পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া চিঠিতে সাংসদরা স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা এখনই বিজেপির পতাকা হাতে নিচ্ছেন না, বরং তৃণমূল কংগ্রেসেরই একটি পৃথক গোষ্ঠী বা দল গঠন করে এনডিএ জোটের অংশ হতে আগ্রহী। এই বিক্ষুব্ধ তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অরূপ চক্রবর্তী, অসিত মাল, খলিলুর রহমান, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কালীপদ সোরেনের মতো হেভিওয়েট নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সংসদীয় রাজনীতি ও তৃণমূলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই আকস্মিক রাজনৈতিক পদক্ষেপের ফলে জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় অবস্থান বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বর্তমানে দিল্লির বাইরে থাকায় চিঠিটি তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। স্পিকার এই আবেদন গ্রহণ করলে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। কাকতালীয়ভাবে, যেদিন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত রয়েছেন, ঠিক সেই দিনই এই ভাঙনের খবর সামনে আসায় দলের কেন্দ্রীয় রণকৌশল বড় ধাক্কা খেল। ২০ জন সাংসদের এই দলত্যাগ কার্যকর হলে সংসদের নিম্নকক্ষে তৃণমূলের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে, যা জাতীয় রাজনীতিতে দলটির দর কষাকষির ক্ষমতা এবং বিরোধী জোটের নির্ভরযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *