দলের অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ! রাজ্যসভার সাংসদ পদ ও তৃণমূল থেকে ইস্তফা সুখেন্দু শেখর রায়ের

তৃণমূলের অন্দরে চরম ভাঙন সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফায় তোলপাড় রাজনীতি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর নেমে এল বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। দলের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করেছেন। সোমবার দিল্লির উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক প্রাক্কালে এই পদত্যাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য বড় ধরনের সংসদীয় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
দীর্ঘদিনের সঙ্গী এই বর্ষীয়ান নেতার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের ভেতরে জেঁকে বসা দুর্নীতি এবং নৈতিক অবক্ষয়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দু শেখর রায় সরাসরি অভিযোগ করেন, দলে সততার চরম অভাব দেখা দিয়েছে এবং শীর্ষস্তরের দুর্নীতি তাঁকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, এই ইস্তফা তারই প্রথম বড় বহিঃপ্রকাশ। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কার্যত দলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
দলে ভাঙনের আশঙ্কা
সুখেন্দু শেখর রায়ের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মতো একজন মার্জিত ও প্রবীণ নেতার সরে দাঁড়ানো তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রতিফলন। বিশেষ করে সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থান এই ঘটনার পর নড়বড়ে হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দলটির আরও কয়েকজন সাংসদ এবং হেভিওয়েট নেতার অবস্থান নিয়েও এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পদত্যাগের পর তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা আগামী দিনে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।