তৃণমূলে মহা ধস? দিল্লিতে শুভেন্দু-ভূপেন্দ্রর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, আজই শাহের দরবারে বিদ্রোহী সাংসদরা!

তৃণমূলে মহা ধস? দিল্লিতে শুভেন্দু-ভূপেন্দ্রর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, আজই শাহের দরবারে বিদ্রোহী সাংসদরা!

দিল্লির বুকে বাংলার মেগা দলবদলের মহানাট্য, অমিত শাহের সঙ্গে কি আজই রুদ্ধদ্বার বৈঠক বিদ্রোহী সাংসদদের!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার দেশের সংসদেও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে বড়সড় ধস নামাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। সোমবার দুপুর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়ে গেছে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দলবদলের আবহ। তৃণমূলের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন সাংসদকে পদ্মশিবিরে টানতে নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছেন বিজেপির তিন হেভিওয়েট নেতা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নয়াদিল্লির ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গের বাসভবনেই বসেছে এই হাই-ভোল্টেজ রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির প্রভাবশালী নেতা নিশিকান্ত দুবে।

দিল্লির বৈঠকে ১১ সাংসদ এবং পর্দার আড়ালে চার তারকা

ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে চলা এই বৈঠকে তৃণমূলের ১১ জন লোকসভা সাংসদ সরাসরি উপস্থিত রয়েছেন। এই তালিকায় আছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক এবং শর্মিলা সরকার। এর পাশাপাশি আরও চার তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, দেব অধিকারী এবং শত্রুঘ্ন সিনহা সরাসরি হাজির না থাকলেও পর্দার আড়াল থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পাকা কথা সেরে রেখেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও আরও ৩ জন লোকসভা সাংসদ এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন।

শর্তপূরণের রফাসূত্র এবং সম্ভাব্য প্রভাব

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বৈঠকে আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে মূলত দুটি প্রধান শর্ত রাখা হয়েছে— আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিকিটের নিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। এই শর্ত ও রফাসূত্র নিয়ে আলোচনা যদি সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ হয়, তবে আজ সোমবার বিকেলেই এই সমস্ত বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে যাওয়া হতে পারে। সেখানে শাহের উপস্থিতিতেই মেগা রফাসূত্রে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে বিকেলের মধ্যেই দিল্লির বুক থেকে বাংলার রাজনীতি ও সংসদের চালচিত্র বদলে দেওয়ার মতো বছরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘোষণা আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *