দিল্লিতে লঙ্কাকাণ্ড! মমতা হাজির থাকতেই কি ভাঙছে তৃণমূল? স্পিকারের দরজায় ২০ বিক্ষুব্ধ সাংসদ

দিল্লিতে কি এবার ভাঙছে তৃণমূল, মমতার উপস্থিতিতেই সংসদীয় দলে চরম টানাপোড়েন!
জাতীয় রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় গুঞ্জন—দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির মধ্যেই কি ভেঙে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল? লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহের জেরে দলীয় প্রতীক ও রাজনৈতিক তহবিল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জোর খবর। কলকাতায় দলের রাশ আলগা হওয়ার পর এবার দিল্লির সংসদীয় দলেও ভাঙন আসন্ন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাংসদদের সংখ্যা নিয়ে দু’পক্ষের তীব্র দড়িটান
লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সাংসদ রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবির এবং বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই দাবি করছে যে তাদের হাতে পর্যাপ্ত সদস্যের সমর্থন রয়েছে। মমতা শিবিরের দাবি অনুযায়ী, মুসলিম সাংসদ ছাড়াও ১৩ জন সাংসদ তাঁদের পক্ষে আছেন এবং দলের ঐক্য বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সাংসদদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষে প্রায় ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। এই বিক্ষুব্ধ অংশের নেতৃত্বে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার রয়েছেন বলে জল্পনা তুঙ্গে, আর বিধানসভার বিক্ষুব্ধদের মধ্যে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় দলীয় নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলে পদত্যাগ করেছেন এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভায় যাওয়া কোয়েল মল্লিকও পদ ছাড়তে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
নেপথ্য কারণ ও বিজেপির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা
তৃণমূলের অন্দরে এই নজিরবিহীন সংকটের মূল কারণ রাজ্যে দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি এবং ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলে একের পর এক জনপ্রতিনিধি ‘বেসুরো’ গাইতে শুরু করেছেন। কলকাতা পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম তৈরি হওয়া এবং পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা কালীঘাটের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানানোয় দলের রাশ ক্রমশ আলগা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আজই বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের একটি গোপন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা এই ভাঙনের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। স্পিকারের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের সাক্ষাতের পরেই স্পষ্ট হবে লোকসভার রাশ কালীঘাটের হাতছাড়া হচ্ছে কি না।