উন্নয়ন বনাম জীবিকার সংঘাত! যাদবপুরে হকার উচ্ছেদে রণক্ষেত্র স্টেশন চত্বর, ক্ষোভে ফুঁসছেন ঊষসী

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে বেআইনি দোকানপাট ও স্থায়ী-অস্থায়ী নির্মাণ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। রেলের বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয় হকার ও বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। উচ্ছেদ ঠেকাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি বাধে এবং একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্যসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যসহ একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করাও হয়েছে।
এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী। ঘটনার পর সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন ও বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট করে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আহতদের সাথে হাসপাতালে যাওয়া এই অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন উন্নয়নের সংজ্ঞা নিয়ে। তিনি লেখেন, বিদেশের মতো চকচকে রাস্তা যারা চাইছেন, আশা করি তারা বিদেশের মতোই মানবাধিকার, মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থারও দাবি জানাবেন। হকারদের বিকল্প জীবিকা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে উচ্ছেদ করার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
উন্নয়ন বনাম প্রান্তিক মানুষের অধিকার
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টেশন চত্বরকে দখলমুক্ত এবং যাতায়াতের উপযোগী করার জন্য এই উচ্ছেদ অভিযান অত্যন্ত জরুরি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই বাজারটির কারণে স্টেশন এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছিল। তবে প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে শত শত হকার এক লহমায় তাদের রুজি-রুটি হারিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। কোনো পূর্ব নোটিশ বা পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে রাতের অন্ধকারে এই ধরনের অভিযান চালানোয় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মনেও।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
ঊষসী চক্রবর্তীর এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে পুনর্বাসনহীন উচ্ছেদের নিন্দা করেছেন, অন্যদিকে শহরের আধুনিকীকরণের স্বার্থে প্রশাসনের পদক্ষেপকে সঠিক বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বাম নেতৃত্বকে আটক করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, যাদবপুরের এই ঘটনাটি নগরায়ণের চাকচিক্য বনাম প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের চিরাচরিত লড়াইকে আরও একবার বড় বিতর্কের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।