খেলার মাঝেই আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ১৪ বছরের কিশোরী, কমবয়সিদের হৃদরোগ নিয়ে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ!

গুজরাতের রাজকোটে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি হলো ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর। রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার শেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলো করার সময় আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আনন্দী মোদী নামের ওই কিশোরী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করার সময় হঠাৎই আনন্দীর গতি কমে আসে এবং সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তীব্র হৃদরোগে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হয়েই এই অকালমৃত্যু ঘটেছে।
আকস্মিক মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের ঘটনার পেছনে অলক্ষ্যে থাকা কোনো জন্মগত হার্টের ত্রুটি (Congenital Heart Defects), হৃদপিণ্ডের পেশির সমস্যা (Cardiomyopathy) কিংবা হঠাৎ করে হৃদস্পন্দনের ছন্দপতন দায়ী হতে পারে। এছাড়া, ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা দৌড়ঝাঁপ করলে শরীরের রক্তসঞ্চালনে আকস্মিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় সংবেদনশীল হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আনন্দীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতার সম্ভাব্য প্রভাব
কমবয়সিদের মধ্যে এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা সমাজ ও স্বাস্থ্যখাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এর আগে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি বা সাধারণ দৌড়াদৌড়ির সময়ও কিশোর-তরুণদের আকস্মিক মৃত্যুর নজির মিলেছে। এই প্রবণতার ফলে অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলো বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের আগে তাদের পারিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস ও হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করানোর বিষয়টি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে, খাওয়ার পরপরই শিশুদের দৌড়ঝাঁপ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।