দিল্লিতে সনিয়া-মমতা রসায়ন, টলমল পরিস্থিতির মধ্যেই বৈঠকে বসল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’

জাতীয় রাজনীতিতে একাধিক ভাঙন ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে দীর্ঘ দিন পর দিল্লিতে আবার বৈঠকে বসল বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ২৩টি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। তবে এবারের বৈঠকের সবচেয়ে নজরকাড়া দৃশ্যটি তৈরি হয়েছে আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে। সমস্ত জল্পনা ও মান-অভিমান সরিয়ে বৈঠকে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশের আসনেই বসতে দেখা গেছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
প্রকাশ্যে আসা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সনিয়া গান্ধীর বাম পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডান পাশে রয়েছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মমতার অন্য পাশে বসেছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। এ ছাড়া বৈঠকে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ সিংহ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লার মতো শীর্ষ নেতারা।
জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও নতুন ইঙ্গিত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বজায় থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই দুই শিবিরের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। রাজ্যে বিজেপির জয়ের পর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতার ফোনালাপ এবং রাহুল-অভিষেক আলোচনা নতুন রসায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এর আগে কালীঘাটের মঞ্চ থেকেও বিজেপি-বিরোধী সব রাজনৈতিক দলসহ বাম ও অতিবামদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা। সোমবারের বৈঠকে সনিয়া ও মমতার এই ঘনিষ্ঠতা সেই পরিবর্তিত সমীকরণকেই জোরালো করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও জোটের ভবিষ্যৎ প্রভাব
২০২৩ সালে ১৫টি দল নিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই টলমল। গত তিন বছরে একাধিক আঞ্চলিক দল ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, কেউ আবার শিবির বদলে শাসক দল এনডিএ-তে যোগ দিয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে যথাক্রমে তৃণমূল ও ডিএমকে-র মতো বড় শক্তির পরাজয় জোটকে আরও দুর্বল করেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র হাত ছেড়ে কংগ্রেস নতুন দল টিভিকে-র সঙ্গে জোট গড়ায় এবারের বৈঠক বয়কট করেছে স্ট্যালিনের দল। অন্যদিকে আম আদমি পার্টির সঙ্গেও কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়েছে।
এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের আবহে ২৩টি দলের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং ২০২৪ পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতেই মূলত এই বৈঠকের আয়োজন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন সমঝোতা ও নেতৃত্ব নিয়ে শরিকদের মধ্যকার তীব্র মতবিরোধ কাটিয়ে এই জোট আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে কতটা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে, তা এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।