পচা ডিমের আতঙ্ক নাকি ক্ষমতার মোহ, কোন সমীকরণে পদ্মবনে ঘাসফুলের সাংসদরা

পচা ডিমের আতঙ্ক নাকি ক্ষমতার মোহ, কোন সমীকরণে পদ্মবনে ঘাসফুলের সাংসদরা

নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হতেই তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যজুড়ে বিক্ষুব্ধ জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে এককালের দাপুটে নেতা-মন্ত্রীদের। বাংলায় পা রাখলেই মিলছে ‘ডিম থেরাপি’ তথা পচা ডিমের অভ্যর্থনা। এমন এক চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও আখের গোছাতে পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন একাধিক তৃণমূল সাংসদ। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলার পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে লোকসভার ১১ জন তৃণমূল সাংসদের হাইভোল্টেজ বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদীয় দলেও এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের তিন শর্তের দর কষাকষি

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা মূলত তিনটি প্রধান শর্ত আদায়ের লক্ষ্যে জোরদার দর কষাকষি শুরু করেছেন। তাঁদের প্রথম এবং প্রধান দাবি হলো, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে নিজেদের টিকিটের শতভাগ নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি আদায় করা। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকারের দেওয়া সমস্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এই অবস্থায় বাংলায় ফিরলে জনরোষ ও পচা ডিমের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা বিজেপির কাছে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তৃতীয়ত, দলবদলু প্রভাবশালী সাংসদদের একাংশ শুধু টিকিট বা নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট নন, তাঁরা কেন্দ্রের বড় কোনো কমিশনের চেয়ারম্যান পদের মতো আকর্ষণীয় রাজনৈতিক পুরস্কারের দাবিও টেবিলে রেখেছেন।

তৃণমূলে ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় এবং জনমানসে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ। ক্ষমতার হাতবদল হতেই দলের ভেতরে তৈরি হয়েছে চরম নেতৃত্ব সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সোমবার দিল্লিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসীত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুখেন্দু শেখর রায়সহ অন্তত ২১ জন তৃণমূল সাংসদ প্রথমে একটি গোপন বৈঠক করেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের একাংশ বিজেপি নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। এই গণ-দলবদলের প্রক্রিয়া যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে সংসদের ভেতরে তৃণমূলের শক্তি ও প্রভাব এক ধাক্কায় তলানিতে এসে ঠেকবে। অন্যদিকে, রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তিকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার রাশ নিজেদের অনুকূলে আরও মজবুত করতে সক্ষম হবে বিজেপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *