শর্তসাপেক্ষে রাজ্যে সিবিআই তদন্তে ছাড়পত্র দিল নবান্ন, জারি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর কাজের পরিধি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। রাজ্যে তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআই-কে শর্তসাপেক্ষ ছাড়পত্র দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ঠিক কোন ধরনের মামলায় সিবিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং কোন ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে।
কারা থাকছেন সিবিআইয়ের নজরে
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগের সরাসরি তদন্ত করতে পারবে সিবিআই। শুধু তাই নয়, কোনো মামলার তদন্তে যদি কেন্দ্রীয় কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সেই মামলায় জড়িত সাধারণ বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানোর পূর্ণ অধিকার থাকবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। দিল্লি স্পেশ্যাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট আইন, ১৯৪৬-এর ধারা ৬ অনুযায়ী এই সম্মতি প্রদান করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের রাশ থাকছে যেখানে
কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রে সিবিআই-কে ছাড় দেওয়া হলেও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষাকবচ বজায় রেখেছে নবান্ন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ কোনো সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে হলে সিবিআই-কে অবশ্যই রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। অর্থাৎ, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংস্থা সরাসরি কোনো স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ বা তদন্ত শুরু করতে পারবে না, সেখানে রাজ্যের সম্মতি একেবারেই অপরিহার্য।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘ বকেয়া ও একাধিপত্যের বিতর্ক এড়িয়ে তদন্তের ক্ষেত্রগুলিকে স্পষ্টভাবে পৃথক করতেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় স্তরের দুর্নীতি মোকাবিলায় গতি আসবে, অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ স্বাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা সিবিআই কর্তৃপক্ষসহ রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এই দ্বি-মুখী নীতির প্রয়োগ কীভাবে সমন্বয় রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতের হাই-প্রোফাইল মামলাগুলিতে এর কী প্রভাব পড়ে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।