তৃণমূলে মহাধস, এবার লোকসভায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে ওম বিড়লাকে চিঠি ২০ সাংসদের

বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদের নিম্নকক্ষেও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের অন্ততঃ ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দল ছাড়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন। প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্রোহী এই সাংসদরা সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা আর তৃণমূলের মূল সংসদের দলের সঙ্গে থাকতে চান না। এই মর্মে লোকসভায় তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করারও আর্জি জানানো হয়েছে স্পিকারের কাছে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আগেই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বিধানসভার সেই একই ভাঙনের ধারা এবার দেশের রাজধানীতে লোকসভার অন্দরেও আছড়ে পড়ল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটির অস্তিত্বই এখন সংকটের মুখে।
দিল্লিতে গোপন বৈঠক ও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ
এই নাটকীয় দলবদলের সূত্রপাত হয়েছিল গত রবিবার। দিল্লিতে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ প্রথমে একটি গোপন বৈঠক সারেন। এরপর সোমবার সকালে তাঁরা সরাসরি হাজির হন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের পরই ক্ষুব্ধ সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও চিঠি জমা দেন।
বিদ্রোহের কারণ ও দূরগামী প্রভাব
সাংসদদের পক্ষ থেকে মূলত রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকা এবং দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই সমস্ত অব্যবস্থা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার রিপোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার জেরে বাধ্য হয়েই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় ধাক্কা খেল। লোকসভার স্পিকারের কাছ থেকে আইনি সম্মতি মিললে, এই বিদ্রোহী অংশটিই লোকসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আইনি সুযোগ পেয়ে যেতে পারে, যা বাংলার শাসক দলের সংসদীয় ক্ষমতার রাশ অনেকটাই দুর্বল করে দেবে।