এবার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আইনি যুদ্ধ, ঋতব্রতর স্বীকৃতি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা ও শোভনদেব

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জটিলতা এবার আইনি লড়াইয়ের রূপ নিল। এই পদের মনোনায়ন ও স্বীকৃতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার জল শেষ পর্যন্ত গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি এবং সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতৃত্ব
আইনি সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা এই মামলার অন্যতম প্রধান আবেদনকারী হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া এবং তার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই মূলত এই মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম ও সাংবিধানিক রীতিনীতি মানা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ জটিলতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরের এই লড়াই আদালতে পৌঁছানোর ফলে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হলো। এই মামলার রায়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনগুলোর গতিপ্রকৃতি। যদি আদালত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি খুঁজে পায়, তবে তা স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। অন্যদিকে, ঋতব্রতর পদ বহাল থাকলে তা শাসকদলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। আইনি লড়াইয়ের এই জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।