ঋতব্রতর পর এবার কি কাকলি, লোকসভায় তৃণমূলের মেগা ভাঙনের নেপথ্যে কোন খেলা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর এবার লোকসভা স্তরেও বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরে। গত সপ্তাহে পরিষদীয় দলের ভাঙনের পর এবার বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক অলিন্দের খবর অনুযায়ী, লোকসভার একঝাঁক অসন্তুষ্ট সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে এই মেগা ভাঙনের নেত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র দ্বন্দ।
পদ খোয়ানো এবং দিল্লির সবুজ সংকেত
এই বিদ্রোহের সূত্রপাত মূলত দলীয় পদ খোয়ানোর ক্ষোভ থেকে। নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার ‘মুখ্য সচেতক’ পদ থেকে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সরিয়ে দেন। এর পরপরই রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ত্যাগ করেন তিনি এবং দ্রুত তাঁর চারপাশে মোতায়েন হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতার সূত্রে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিলই। সূত্রের দাবি, সুযোগ বুঝে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই তৃণমূলের বাকি অসন্তুষ্ট সাংসদদের এককাট্টা করার মিশনে নামেন।
নেতৃত্ব নিয়ে রেষারেষি এবং সম্ভাব্য প্রভাব
বিদ্রোহী হলেও তৃণমূলের অন্য সাংসদরা কাকলির এই একচ্ছত্র নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি নন। দিল্লির এক সাংসদের বাড়িতে আয়োজিত অত্যন্ত গোপন বৈঠকে অন্তত ১২ জন লোকসভা সাংসদের উপস্থিতিতে সেই ক্ষোভ প্রকাশ্য রূপ নেয়। বৈঠক চলাকালীন কাকলি ছবি তুলতে গেলে এক সাংসদ আপত্তি জানান, যার জবাবে কাকলি স্পষ্ট বলেন যে এই ছবি অমিত শাহকে পাঠাতে হবে। আসলে দলবদলের এই খেলায় প্রত্যেকেই এখন দিল্লিতে নিজের ‘ওজন’ বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট বাড়িয়ে বড় কোনো পুরস্কার বা মন্ত্রীপদ নিশ্চিত করতে চাইছেন। ফলে নেত্রী হিসেবে কাকলিকে এড়িয়ে অনেকেই এখন সরাসরি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এই অভ্যন্তরীণ রেষারেষির জেরে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় শক্তি যেমন মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেতে চলেছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও এর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।