রক্তক্ষয়ী লাঠিচার্জের পর এবার যাদবপুর উচ্ছেদ বিতর্কের জল গড়াল হাইকোর্টে

রক্তক্ষয়ী লাঠিচার্জের পর এবার যাদবপুর উচ্ছেদ বিতর্কের জল গড়াল হাইকোর্টে

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে অবৈধ নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র সংঘাতের রেশ এবার পৌঁছে গেছে কলকাতা হাইকোর্টে। রবিবার গভীর রাতে রেলের জমিতে চালানো এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই এই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবারই এই মামলার জরুরি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হকারদের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এখন এক নতুন আইনি লড়াইয়ের অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।

মধ্যরাতের রণক্ষেত্র যাদবপুর

রবিবার রাতের এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। রেল সুরক্ষা বাহিনী, কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও হকাররা তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই লাঠিচার্জের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। উচ্ছেদ রুখতে গিয়ে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনার জেরে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

বুলডোজার আতঙ্ক ও ক্ষোভের কারণ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে কোনো পূর্বঘোষণা বা পর্যাপ্ত নোটিস ছাড়াই আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের সতর্কবার্তা দিয়ে ভারী বুলডোজার নামিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়, যার ফলে হকাররা তাঁদের দোকান ও জিনিসপত্র সরানোর ন্যূনতম সময়টুকুও পাননি। এর আগে গত ২ জুন রাতেও একইভাবে বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সে সময় বাম যুব নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তীব্র প্রতিবাদের জেরে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সাথে মধ্যস্থতায় তিন সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযান ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও আইনি জটিলতা

আইনগত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই রেল প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ যাদবপুরের হকারদের জীবিকাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদের ফলে শত শত গরিব মানুষের রুজি-রুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন উচ্ছেদ হওয়া হকার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদী অবস্থানে আগামী দিনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন মঙ্গলবারের হাইকোর্টের শুনানির ওপরই নির্ভর করছে যাদবপুরের হকারদের ভবিষ্যৎ এবং এই উচ্ছেদ অভিযানের আইনি বৈধতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *