তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিরাট ভাঙন, বিজেপির পথে হেভিওয়েট সাংসদরা!

তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিরাট ভাঙন, বিজেপির পথে হেভিওয়েট সাংসদরা!

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই যে রাজনৈতিক জল্পনা চলছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে এক নজিরবিহীন ভাঙনের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন লোকসভা সাংসদ আজ সোমবারই দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আইনি জটিলতা এড়ানোর খুঁটিনাটি প্রক্রিয়া শেষ হলেই এই সাংসদরা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে পারেন। নির্বাচনের পর বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের হাত ধরে যে অসন্তোষের শুরু হয়েছিল, তা এখন গণ-দলবদলের রূপ নিচ্ছে।

কৌশলগত টাইমিং এবং রাজনৈতিক চাপ

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে রয়েছে গভীর কৌশল। আজ দিল্লিতে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে এবং যেখানে মমতা ও অভিষেক উপস্থিত রয়েছেন, ঠিক সেই সময়ই এই ভাঙনের খবর সামনে আনা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব কৌশলগতভাবে এই দিনটি বেছে নিয়েছে যাতে জাতীয় স্তরে তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক আক্রমণের ঝাঁঝ কমিয়ে দেওয়া যায়। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হওয়ায়, এই ভাঙন তাঁর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বড়সড় ধাক্কা। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা এবং গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালিকায় হেভিওয়েট ও তারকা সাংসদরা

বিজেপি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য দলত্যাগীদের তালিকায় উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক হেভিওয়েট ও তারকা সাংসদের নাম রয়েছে। এই তালিকায় কাকলি ঘোষদস্তিদার ছাড়াও রয়েছেন হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের শতাব্দী রায় ও অসিত মাল, মথুরাপুরের বাপি হালদার, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, কোচবিহারের জগদীশ বাসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সোরেন, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, ঘাটালের দেব এবং বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার। এ ছাড়াও বিদেশ যাওয়ার আগে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আসানসোলের তারকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও পদ্ম শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ বেল্টের দুই সাংসদ আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও তাঁরা মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বাধীন দল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সংসদে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারেন। এই ঘটনাপ্রবাহ চূড়ান্ত রূপ নিলে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *