সতর্কবার্তা! ৫ ও ১৫ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক এই কাজ না করলে নিষ্ক্রিয় হতে পারে সন্তানের আধার কার্ড

নিষ্ক্রিয় হতে পারে সন্তানের আধার কার্ড, অভিভাবকরা দ্রুত করুন এই জরুরি কাজ!
বর্তমান সময়ে অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সচেতনতার অভাবে বহু শিশুর আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আধার কার্ডের তথ্য আপডেট করা আইনত বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম না মানার কারণে বহু অভিভাবক বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাসংক্রান্ত সুবিধা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেটের নিয়ম
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের আধার কার্ড তৈরির সময় আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির (আইরিস) মতো বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। ফলে, শিশুর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার এবং পরবর্তীতে ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ থেকে ৭ বছর এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি সন্তানদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। UIDAI-এর নিয়ম অনুসারে, শিশুদের জন্য এই বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেট প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে।
নিষ্ক্রিয়তার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্দিষ্ট সময়ে বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ বা আপডেট না করার ফলে আধার প্রমাণীকরণ (অথেন্টিকেশন) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং কার্ডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে স্কুল-কলেজে ভর্তি, বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি বা স্কলারশিপের আবেদন, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রবেশিকা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মতো অত্যন্ত জরুরি কাজগুলো মাঝপথে আটকে যাচ্ছে।
আধার সেবা কেন্দ্রের আধিকারিকদের মতে, অনেক পরিবার এই বাধ্যতামূলক নিয়মটি সম্পর্কে অবগত না থাকায় সময়মতো আপডেট করাচ্ছেন না, যার ফলে পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ছে। বায়োমেট্রিক আপডেটের জন্য আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির স্ক্যান করা আবশ্যক হওয়ায়, সন্তানকে সশরীরে নিকটস্থ আধার সেবা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অফলাইন ভিত্তিক হওয়ায় অনলাইনে সম্পন্ন করার কোনো সুযোগ নেই।