বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রেরণা পাবলিশার্সের বড় চমক, প্রকাশিত হলো পরিবেশ-গবেষণার নতুন বই ‘ইকো-ইথোস’

পরিবেশ দিবসের মঞ্চে অনন্য নজির, প্রকাশিত হলো গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘ইকো-ইথোস’
বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গবেষণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো কলকাতায়। সম্প্রতি শহরের অ্যাগোরা স্পেস হলে প্রেরণা পাবলিশার্সের বার্ষিক রয়্যালটি প্রদান ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে আয়োজিত হয়। এই বিশেষ মঞ্চেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে পরিবেশ, উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব বিষয়ক নতুন গবেষণাগ্রন্থ ‘ইকো-ইথোস: ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনসাইটস অন এনভায়রনমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’।
প্রেরণা পাবলিশার্স এবং হাওড়ার পুরাশ কানপুর হরিদাসনন্দী মহাবিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই বইটিতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন অধ্যাপক ও গবেষকের মূল্যবান প্রবন্ধ। আঞ্চলিক ইতিহাস থেকে শুরু করে পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সমসাময়িক বিষয় এই গ্রন্থে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয়েছে।
শিক্ষামহলে ব্যাপক সাড়া ও গুণগত মূল্যায়ন
গ্রন্থটি প্রকাশের পরপরই তা শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বইটির গুণগত মান নিশ্চিত করতে এর পর্যালোচনার দায়িত্বে ছিলেন দেশের নামী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা। রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার, আইআইএম রাঁচি, ভারত সরকারের অর্থ দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির মতো শীর্ষ স্তরের প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই যৌথ উদ্যোগ ও কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতি বইটির গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিপর্যয় কাটিয়ে দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান ইতিবাচক দিক ছিল লেখকদের হাতে প্রাপ্য রয়্যালটি চেক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া। গত সেপ্টেম্বর মাসের ভয়াবহ বন্যায় প্রকাশনা সংস্থাটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল। কিন্তু সেই আর্থিক ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয়কে উপেক্ষা করেও লেখকদের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা বজায় রেখেছে প্রেরণা পাবলিশার্স। সঠিক সময়ে রয়্যালটি প্রদানের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বর্তমান প্রকাশনা শিল্পে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের এই সময়ে ‘ইকো-ইথোস’-এর মতো গবেষণাগ্রন্থের প্রকাশ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি একদিকে যেমন পরিবেশ ব্যবস্থাপনার নতুন পথ দেখাবে, অন্যদিকে প্রকাশনা সংস্থার এই আন্তরিকতা ভবিষ্যৎ গবেষক ও লেখকদের আরও মানসম্মত মৌলিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনেও মেধা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।