মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন অরূপ! ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ফ্ল্যাটে পুলিশের জোর তল্লাশি

মেসি কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য, এবার নিখোঁজ অরূপ বিশ্বাসের খোঁজে ফ্ল্যাটে হানা দিল পুলিশ!
মেসি কাণ্ডে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও থানায় হাজিরা দেননি রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্ট থেকেও মেলেনি কোনো আইনি রক্ষাকবচ। এই জোড়া অস্বস্তির মাঝেই এবার বেহালার সাহাপুর কলোনিতে অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযানে নামল বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হন প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের অনুমান, টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের দাপট চালানো এই দুই ভাইয়ের আর্থিক লেনদেন বা অন্যান্য অপরাধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বেহালার এই ফ্ল্যাটটিতে লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। সেই তল্লাশির অংশ হিসেবেই পুরো আবাসনটি ঘিরে ফেলে ভেতরে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
আইনি রক্ষাকবচ খারিজ ও গ্রেফতারির আশঙ্কা
মেসি কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে অরূপ বিশ্বাসকে আজ সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এর আগে প্রথম নোটিশে তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিলেও কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেননি। আজ সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও তিনি থানায় উপস্থিত হননি এবং বর্তমানে তাঁর কোনো খোঁজ মিলছে না। এরই মধ্যে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়ে স্পষ্ট জানান, নিয়ম মেনেই মামলার শুনানি হবে। কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। এমনকি গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকলে তাঁকে আগাম জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেয় আদালত।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি এবং অন্যদিকে মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের ক্রমাগত পুলিশি সমন এড়িয়ে যাওয়া— দুইয়ে মিলে চরম সংকটে পড়েছে ‘বিশ্বাসের পরিবার’। আইনি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দ্বিতীয় নোটিশ অমান্য করার পর দুপুরের মধ্যেও প্রাক্তন মন্ত্রী আত্মসমর্পণ না করায় পুলিশ এখন তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যেকোনো মুহূর্তে অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে এক বড়সড় ঝাঁকুনি লাগতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।