তৃণমূলে ঐতিহাসিক ধস! ওম বিড়লাকে ২০ সাংসদের সই করা চিঠি জমা দিলেন কাকলি

তৃণমূলে ঐতিহাসিক ধস! ওম বিড়লাকে ২০ সাংসদের সই করা চিঠি জমা দিলেন কাকলি

তৃণমূল শিবিরে তুমুল রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করে দল ছাড়লেন একঝাঁক প্রথম সারির লোকসভা সাংসদ। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি চিঠি জমা পড়েছে। এই ঘটনার মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শাসক শিবিরের এই আকস্মিক ভাঙন রাজ্যের তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দলীয় সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেই পদত্যাগ বা ক্ষোভের এই চিঠি জমা দেন বিদ্রোহী নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর দাবি, এই চিঠিতে তাঁর নিজের স্বাক্ষর ছাড়াও দলের আরও ১৯ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। দলত্যাগী বা বিক্ষুব্ধদের এই তালিকায় রয়েছেন একঝাঁক তারকা ও হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী। তালিকায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, জগদীশ বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন এবং অরূপ চক্রবর্তীর মতো প্রবীণ ও নবীন রাজনীতিকদের নাম রয়েছে। পাশাপাশি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), শতাব্দী রায় ও জুন মালিয়ার মতো জনপ্রিয় তারকা সাংসদরাও এই বিদ্রোহে শামিল হয়েছেন। এছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে সাজদা আহমেদ, বাপি হালদার, ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহেরের।

অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও দিল্লি সংযোগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে জমতে থাকা ক্ষোভ এবং নীতিগত মতপার্থক্যই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের মূল কারণ। বিশেষ করে লোকসভার ভেতরে সংসদীয় দল পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাংসদদের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। দিল্লির সংসদীয় অলিন্দে নিজেদের গুরুত্ব ও স্বাধীনতা বজায় রাখতেই এই সাংসদরা একজোট হয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজনীতি ও তৃণমূলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

একসঙ্গে এতজন সাংসদের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমতে চলেছে। লোকসভায় বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দিল্লির রাজনীতিতে যে প্রভাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বজায় রাখত, তা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ল। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে লোকসভার অন্দরে দলের ভোটাভুটির ক্ষমতায়। অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতিতেও এই ভাঙন দলের নিচু তলার কর্মী-সমর্থকদের মনোবলে বড়সড় চির ধরাতে পারে, যা আগামী দিনে শাসক দলের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *