দিল্লিতে বড় চুক্তি! বাংলায় চালু হলো আয়ুষ্মান ভারত, সাড়ে ৬ কোটি মানুষ পাবেন সুবিধা

দিল্লিতে বড় চুক্তি! বাংলায় চালু হলো আয়ুষ্মান ভারত, সাড়ে ৬ কোটি মানুষ পাবেন সুবিধা

শেকল ভাঙল চিকিৎসার, রাজ্যে অবশেষে চালু হলো আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প!

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমস্ত জল্পনা ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে এই মেগা স্বাস্থ্য প্রকল্প চালুর বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ সরাসরি আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে নিখরচায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

অর্থনৈতিক জটমুক্তি ও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ

রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সহায়তার একটি বড় অঙ্কের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৫২৭ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছে কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই কেন্দ্রীয় তহবিল ছাড় পাওয়ায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বকেয়া মেটানোর কাজ আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ পদক্ষেপকে বাংলার স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় আর্থিক বুস্টার ডোজ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আয়ুষ্মান চালুর কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

মূলত রাজ্যের একটি বিশাল অংশের সাধারণ মানুষকে নিখরচায় দেশের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত বড় হাসপাতালগুলোতে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই চুক্তি করা হয়েছে। এতদিন কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন রাজ্যের বহু নাগরিক, যার ফলে ভিনরাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হতো সাধারণ পরিবারগুলোকে।

এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি নাগরিকের চিকিৎসার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। ক্যানসার, হৃদরোগ বা স্নায়ুরোগের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে আর ঘটিবাটি বিক্রি করতে হবে না। একই সাথে, কেন্দ্রীয় তহবিল আসায় গ্রামীণ স্তরের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর আধুনিকীকরণ সহজ হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্প চালুর ফলে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলোও বিপুল সংখ্যক নতুন রোগী পাবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *